সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি

মো. রফিকুল ইসলাম ॥ বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় বাংলাদেশও বিপদগ্রস্ত। আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিনই। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্তদের পরীক্ষার পরিসরও বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ। আমাদের নানা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নানামুখী সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে এসব নানামুখী সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের পরও এটি কতটুকু কার্যকর হচ্ছে বা সুফল বয়ে আনছে, সেটা খতিয়ে দেখার সময় হয়েছে।
যে দেশে লকডাউন করা বাড়ি দেখতে উৎসুক শত মানুষের ভিড় জমে যায়. সেদেশের মানুষগুলোকে বাড়ির ভেতর রাখাটাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়দিনে কয়েক দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। লকডাউনও ঘোষণা করা হচ্ছে।
মানুষও ঘর থেকে বের হচ্ছে হরহামেশাই। বাজার করছে, ঘুরছে, চা পান করছে, উঠতি বয়সের ছেলেদের আড্ডা চলছে একদম স্বাভাবিকভাবেই! গ্রামের বা মহল্লার দোকানগুলোতে রীতিমতো ঈদের আমেজ! ইতোমধ্যেই ঘোষণা এসেছে, সন্ধ্যা ৬টার পর বের হলেই কঠোর অবস্থায় যাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার মানে ৬টার আগে ঘোরা যাবে?
সারাদিন ঘুরে আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে নিজের পরিবার, সমাজ তথা পুরো রাষ্ট্রকেই সংক্রমিত করা শেষে ৬টার পর তার বাড়ির বাইরে বের হলেই কী; আর না হলেই বা কী আসে যায়? কী ভয়ানক অবস্থা কল্পনা করুন!
সরকারের প্রচারণা, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সচেতনতামূলক পরামর্শ, প্রতিদিনের আক্রান্ত বা মৃত্যুর পরিসংখ্যান কোনটিই অসচেতন মানুষগুলোকে ঘরে আটকে রাখতে পারছে না! এভাবে চলতে থাকলে কতবার সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো যাবে? কতদিন লকডাউন চলবে? একসময় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। জীবন-জীবিকার তাগিদেই লকডাউনের দেয়াল ভেদ করে অসহায় মানুষগুলো বাইরে বেরিয়ে পড়বে। তখন সব লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে বাধ্য। পরিস্থিতি চলে যাবে একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। মহামারী পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হবে কী?
তবে সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। হ্যাঁ, এখনও সময় আছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করুন। প্রয়োজন বা বিনা প্রয়োজন কোনো অবস্থাতেই ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। একদম হোম কোয়ারেন্টিন। ১৫ দিনের জন্য। প্রয়োজনে কারফিউ দিন।
তা না হলে মানুষকে ঘরে রাখা যাবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত নির্দেশনা দিন। একদম রুদ্রমূর্তি ধারণ করুন। সরকারের পক্ষে এটা কোনো অসাধ্য কাজ নয়। আন্তরিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসুন। মানছি, কষ্ট হবে। ১৫ দিনই তো! তা না হলে এ ১৫ দিনই হয়ে যাবে ১৫০ দিন! তখন কী হবে? হয়তো এজন্য আমাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
হ্যাঁ, এর আগে হতদরিদ্র মানুষগুলোকে নিয়ে একটা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। প্রতিটি ওয়ার্ডভিত্তিক তাদের নামের তালিকা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের জন্য এই ১৫ দিনের খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর খাবারের সংস্থান করতে পারলে আমাদের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ১৫ দিনের খাবারের সংস্থান করতে রাষ্ট্রের কষ্ট হওয়ার কথা না।

Comments

comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



প্রকাশ ও সম্পাদক : মো. রফিকুল ইসলাম

প্রধান সম্পাদক : পীরজাদা : মোঃ নোয়াব আলী,

নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ সাদেক হোসেন খান,

সহকারী সম্পাদক: হাজী মোঃ জুলহাস খান ও মোঃ মহিউদ্দিন মহি

অফিস: হাজী মোছলেম উদ্দিন কমপ্লেক্স,

গাছা, গাজীপুর।

 

ইমেইল: news@bangladesh-protidin.com

ওয়েবসাইট নির্মানে: আইটি হাউজ বাংলাদেশ

ব্রেকিং নিউজঃ