ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, | ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশের দায়সারা কর্মসূচী


নিউজ ডেস্ক : চীনসহ বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাস (2019-nCoV)। বাংলাদেশে এর প্রবেশ রোধে সব বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু ঢাকার একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এই ভাইরাস নির্ণয়ের পরীক্ষার সুযোগ আছে। এ ছাড়া দেশের কোথাও এ ব্যবস্থা নেই। এ ধরনের রোগের ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স নেই।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের একমাত্র থার্মাল স্ক্যানরটি নষ্ট। সমুদ্রবন্দরে এখনও বসানো হয়নি থার্মাল স্ক্যানার। হ্যান্ডহেল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা চলছে।
বিদেশি জাহাজের নাবিকরা বিনা বাধায় বন্দরে সংরক্ষিত এলাকা পেরিয়ে প্রবেশ করছেন চট্টগ্রাম নগরীতে। অকেজো পড়ে আছে সিলেট বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার। জনসচেতনতায় সীমাবদ্ধ কুড়িগ্রামের দুই স্থলবন্দরের কার্যক্রম। যশোরের বেনাপোল বন্দরের থার্মাল স্ক্যানারের মনিটর নষ্ট।
জিজ্ঞাসাবাদেই সীমাবদ্ধ পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে শুধু হাঁটাযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারত থেকে আসা ট্রাক ড্রাইভাররা রয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে। কলকাতাগামী ট্রেনের যাত্রীরা পরীক্ষার বাইরে থাকছেন। দেশব্যাপী এরকম ঢিলেঢালা ভাবে চলছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম।
এদিকে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে চীনে ৯১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ১৭১ জনে। চীনের বাইরে ২৫টি দেশে আড়াইশ’র বেশি মানুষ এ ভাইরাসের শিকার। এছাড়া সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ৮ জন রুমমেটকেও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। চীনফেরত এক শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। এ শিক্ষার্থীর বমি ও শ্বাসকষ্ট শুরুর পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার ২৪৫ জন বিদেশফেরত যাত্রীর মেডিকেল স্ক্রিনিং সম্পন্ন করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে স্ক্রিনিং করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৩০ জনকে।
ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৬,১৬২ জন, নৌবন্দরে ২৪০ জন এবং সমুদ্রবন্দরসমূহ ৬,২২৪ জন বিদেশফেরত যাত্রীর করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য সচেতনতায় করণীয় শীর্ষক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নতুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যে ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে সেটি আরও জোরদার করতে হবে। সবধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করতে হবে।
যারা প্রত্যেক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। দেশের সব এন্ট্রি পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করতে হবে। এসবের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।
যদিও স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপাজেলা পর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। তাদের করণীয় সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। কারও কিছু প্রয়োজন থাকলে সেটিও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। দু-একটি জায়গায় কিছু শিথিলতা থাকতে পারে, তবে সামগ্রিক প্রস্তুতি ভালো।
সিলেট বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার অকেজো
সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার অকেজো থাকায় স্বাভাবিক থার্মোমিটার দিয়ে যাত্রীদের স্ক্যান করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, চীনের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি ফ্লাইট নেই। এ জন্য সেখান থেকে কেউ এলে ঢাকায় ট্রানজিট দিয়ে আসতে হয়। তবে এখানে থার্মাল স্ক্যানারটি অকেজো রয়েছে।
দিনাজপুর হিলি ইমিগ্রেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই
দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের নেই স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে মেডিকেল টিমের নামে বসিয়ে রাখা হয়েছে একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে।
নেই কোনো যন্ত্রপাতি। অথচ এই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হন প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী। গত ৩১ জানুয়ারি হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চীন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন ইউনান ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী। চীন থেকে ভারত হয়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একামাত্র থার্মাল স্ক্যানারটি নষ্ট পড়ে আছে। প্রতিদিন ৫-৬শ’ যাত্রী এ বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। হ্যান্ডহেল স্ক্যানার দিয়েই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ অবস্থান করে।
এসব জাহাজের প্রতিটিতে গড়ে ৩২-৪০ জন নাবিক থাকেন। সেই হিসাবে বন্দরে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার নাবিক অবস্থান করেন। জাহাজে অবস্থানকালীন তারা বন্দর সংরক্ষিত এলাকা পেরিয়ে নগরীতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।
তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয়নি। হ্যান্ডহেল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রী ও নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য যা যাথেষ্ট নয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর এম শফিউল বারী যুগান্তরকে বলেন, করোনা সতর্কতা হিসেবে তিন স্তরের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনটি জায়গায় নাবিকদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। চীন থেকে কোনো জাহাজ এলে নাবিকদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে শতভাগ। এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া যায়নি।
বেনাপোল
যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টের থার্মাল স্ক্যানারটি সচল থাকলেও কাজ করছে না মনিটর। এ ছাড়া কলকাতাগামী বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা থাকছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে। ফলে ট্রেনের যাত্রীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। বেনাপোল একটি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর।
প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এই বন্দর অতিক্রম করেন। নতুন করোনাভাইরাস যাতে বাংলাদেশে আসতে না পারে, সে জন্য ১৮ জানুয়ারি থেকে বন্দর অতিক্রমকারী যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এমনটি জানিয়েছেন বন্দরে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. বিচিত্র মল্লিক।
বাংলাবান্ধা
জিজ্ঞাসাবাদেই সীমাবদ্ধ পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম। চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য এই বন্দর ব্যবহার করা হয়। অথচ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অতিক্রমকারী যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা হচ্ছে কি না, তা শুধু জিজ্ঞাসাবাদে সীমাবদ্ধ।
মেডিকেল ক্যাম্পে মাত্র দুটি থার্মোমিটার ছাড়া কোনো যন্ত্রপাতি নেই। রয়েছে জনজনবল সংকট। তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানান, লক্ষণগুলোর মাত্রাতিরিক্তভাবে কারও ধরা পড়লে স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ক্যাম্পে কোনো মেডিকেল অফিসার ও শনাক্তকরণ যন্ত্র নেই।
ভোমরা
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে শুধু হাঁটাযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম এই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় এখনও আনা হয়নি। এ প্রসঙ্গে ভোমরা স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ড্রাইভাররা গাড়িতে থাকেন। রাস্তার ওপর শত শত গাড়ি থামিয়ে চেকআপ করা হলে বন্দরে যানজট বেড়ে যায়। তাই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না।
আখাউড়া
আখাউড়া স্থলবন্দরেও হ্যান্ডহেল স্ক্যানারে চলছে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দরে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম যুগান্তরকে জানান, আখাউড়া চেকপোস্টে মিনি স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষার কাজ চলছে। কোনো যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা বেশি পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
জনসচেতনতায় সীমাবদ্ধ কুড়িগ্রামের দুই স্থলবন্দর
জনসচেতনতায় সীমাবদ্ধ কুড়িগ্রামের দুই স্থালবন্দর ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারী। সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে চাহিদা জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট আমরা পাব।
রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারীতে রয়েছে একটি বর্ডার হাট। মালামাল পরিবহনের জন্য ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট স্থলবন্দর। এ ছাড়া রৌমারী ইমিগ্রেশন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন মানুষ যাতায়াত করছে। ফলে বাইরে থেকে মানুষের মাধ্যমে এ ভাইরাস আসার আশঙ্কা আছে। চলতি মাসে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ৫ শতাধিক ট্রাক ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। এসব চালককে কোনোভাবেই পরীক্ষার আওতায় আনা হয়নি।
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১০ জন
নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ৯১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার একদিনেই এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৯৭ জন। নতুন ৩০৬২ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ১৭১ জনে।
দেশটির মূল ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে একজন জাপানি ও একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, বাকিরা স্থানীয়। মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত ফিলিপিন্স ও হংকংয়ে দুই চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। চীনের বাইরে ২৫টি দেশে আড়াইশ’র বেশি মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গত ৩০ জানুয়ারি এটাকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
চীনফেরত একজন রংপুর থেকে ঢাকায়
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি চীনফেরত শিক্ষার্থীকে ঢাকায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজধানীর মহাখালীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চীনফেরত ওই শিক্ষার্থীর শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই। তবে তার কিডনি সমস্যা রয়েছে। যেহেতু সে চীনফেরত, সে কারণে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবালা ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের ৩০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি রোববার সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চীন থেকে বাংলাদেশে আসে। ‘শ্বাসকষ্ট ও বমি’ হওয়ায় তাকে রাত সাড়ে ১০টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশির ৮ রুমমেট কোয়ারেন্টাইনে
সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশির আট রুমমেটকে কোয়ারেন্টাইনে (পৃথক স্থানে) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত বাংলাদেশির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছে সেখানে থাকা বাংলাদেশ হাইকমিশন। সোমবার সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ পাওয়া যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সিঙ্গাপুরের জিপি ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
৫ ফেব্রুয়ারি এই বাংলাদেশিকে চাঙ্গি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বেডোক পলি ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার সকালে ওই বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। পরে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে সরিয়ে নেয়া হয়। আক্রান্ত বাংলাদেশির সঙ্গে আরও আটজন এক রুমে থাকতেন। ওই আটজনকেও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা যাত্রীদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি অবগত আছেন।
চীনের বাইরে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ আরও ২৫টি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এ ক্ষেত্রে চীনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী স্থগিত
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক প্রদর্শনী ২০২০ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)। বিপিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে বাংলাদেশে আসার জন্য চীনা নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা সাময়িক স্থগিত করে সরকার। এর পরই সোমবার বিপিজিএমইএ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, চীন ও তাইওয়ানের একটি প্রতিনিধি দল মেলায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা জানিয়েছে আসতে পারবে না। এ কারণে প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়েছে।
নজরদারিতে পাঁচ বাংলাদেশি
একজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে ভ্রমণ করায় পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে নজরদারিতে রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাতক্ষীরা জেলার এসব বাসিন্দা সম্প্রতি থাই লায়ন নামক একটি ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন।
একই ফ্লাইটে তাদের সঙ্গে কাছাকাছি সিটে ওই চীনা নাগরিক ভ্রমণ করেছিলেন। দেশে ফেরার পর ওই চীনা নাগরিকের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তবে ওই চীনা নাগরিক থাই লায়ন ফ্লাইটে কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিলেন কিংবা তার সহযাত্রীরা কোথা থেকে ফিরেছেন সে সম্পর্কিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। জানা যায়, ২৯ জানুয়ারি চীনা নাগরিকের সঙ্গে একই ফ্লাইটে পাঁচ বাংলাদেশি ভ্রমণ করেছিলেন।

Comments

comments